July 1, 2022, 4:03 am
শিরোনাম :
শিহাবের মৃত্যু: সৃষ্টি স্কুলের ৯ শিক্ষক আটক বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ‘ইন্ট্রোডাকশন টু এসডিজিজ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত ইয়েস বাংলাদেশের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা এনসিটিএফ’র আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম একাডেমিক কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত রাবির নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ও উপ-উপাচার্যকে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভেচ্ছা প্রদান “আত্মবিশ্বাস আসে জ্ঞান থেকে” বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ওয়েবিনারে সোলায়মান সুখন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা’র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টের স্থায়ী ক্যাম্পাস পরিদর্শন জাতীয় শোক দিবসে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের “ওয়েবিনার ও অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিত “

‘কচি কাঁধে সংসারের বোঝ‘

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০
  • 2 Time View

শিক্ষাজব ডেস্ক:

বারো বছরের রবিউলকে স্পর্শ করতে পারছে না শৈশবের আনন্দ আর দূরন্তপনা। এই বয়সে রবিউল নিয়েছে সংসারের দায়িত্ব। গোটা সংসার ও মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে সারা দিন তাকে ফুল বিক্রি করতে হয়। এই ছোট্ট শিশুর আয়েই চলে তাদের পরিবার। একদিন ফুল বিক্রি না হলে পরিবারে চুলায় লাকড়ি জ্বলে না। আজ শনিবার দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় ‘সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি’ এই সংবাদটি লেখেছেন।

রবিউলের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী নগরীর বাচ্চুর মরে সে এবং তার পঙ্গু মা কমেলা একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে। বাবা সড়ক দুর্ঘনায় মারা যান। তারপর শুধু ছেলে এবং মায়ের সংসার। মা ব্যাংকে গার্ডের চাকরি করতেন। তখন বনগাঁ প্রাইমারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো রবিউল। সেখান থেকে তার মা তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেন, কিন্তু মাদ্রাসায় পড়া হয় না বেশি দিন। প্রায় এক বছর আগে ট্রেন দুর্ঘটনায় তার মায়ের একটি পা কেটে যায়। তারপর থেকে সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়। পঙ্গু মায়ের চিকিৎসার খরচ তাকেই চালাতে হয়।

প্রতিদিন সকালে বেরিয়ে পড়ে নিজের এবং মায়ের খাবার জোগাড় করার জন্য। প্রথমে ভিক্ষা করে তার পর সে টাকা দিয়ে গোলাপ ফুল কিনে বিক্রি করে। ৫০ থেকে ৬০ টাকার গোলাপ ফুল কিনে বিক্রি করে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকায়। যা টাকা হয় তা দিয়ে চাল ডাল কিনে নিয়ে গেলে বাড়িতে উনুন ধরান পঙ্গু মা। মা বলেছিলেন তিনি যে ব্যাংকে গার্ডের চাকরি করতেন সেখানে কাজে লাগিয়ে দিবে তখন হাফ বেলা স্কুল আর হাফ বেলা কাজ করবে। তবে তা আর সম্ভব হয় নি। করোনা সব উলট-পালট করে দিয়েছে। সব কিছু বন্ধ থাকার কারণে ফুল বিক্রি হত না। বাড়িতে সময় কাটতো বেশি সময়।

কোনো জায়গা থেকে কোনো রকম সাহায্য পায় নি। কলেজ ভাসির্টিতে পড়া ভাইয়া আপুরা যে খাবার দিত তা খেয়েই দিন পার করতে হত। যেদিন দিত না সেদিন না খেয়েই কাটাতে হত। কখনো বা কারো কাছে টাকা চেয়ে মাস্ক কিনে বিক্রি করেছে। মায়ের চিকিৎসা ঘর-ভাড়া সব কিছুই চলে ছোট্ট রবিউলের আয়ে। মা অসুস্থ হলে রবিউলকেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। কিছুদিন আগেও মা অসুস্থ ছিলেন তখন ফুল বিক্রি করতে বের হতে পারে নি।

আশেপাশের মানুষ জনের কাছ থেকে টাকা চেয়ে মায়ের চিকিৎসা করিয়েছে। পড়ালেখা করতে খুব ইচ্ছে করে। বই, খাতা, কলম, ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে, পড়তে ইচ্ছে করে, কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না। স্কুলে গেলে দুবেলা পেটে খাবার জুটবে না। মায়ের ওষুধ কিনতে পারবে না। যখনি স্কুলের সামনে দিয়ে যায় অন্য সব বাচ্চাদের মত তারও স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে। অন্য সব বাচ্চাদের মত তারও ইচ্ছে করে আনন্দের সাথে ঘুরে বেড়াতে।

পড়ালেখা করে ভবিষতে কী হবার ইচ্ছা জিজ্ঞেস করলে রবিউল বলে, বড় হয়ে সে ডাক্তার হতে চাই। তার মত গরিব মানুষদের সেবা করতে চাই।

মায়ের পঙ্গুত্ব কেড়ে নিয়েছে রবিউলের ভবিষত। অন্ধকার এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রবিউল। রবিউলের মা কমেলা বলেন, স্বামী কিছুই করতো না- তবুও যখন বেঁচে ছিলো তখন বুকে বল ছিলো। স্বামীকে আল্লাহ হঠাৎ করেই তুলে নিলেন উপরে। তখনো বুকের বল আর সাহস হারায় নি। কষ্ট করে হলেও ছেলেকে মানুষ করবো ভেবেছিলাম কিন্ত তাও হলো না। ট্রেনের লাইনে আল্লাহ একটা পা নিয়ে নিলেন। কারো সাহায্য পেলে হয়তো ছেলেকে আবার পড়াতে পারতাম কিন্তু কারো কাছে কোনো রকম সাহায্য পায় নি। তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকেই কাজে পাঠাচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin