July 6, 2022, 6:29 am
শিরোনাম :
প্রাণ, মিনিস্টার ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে চাকরির সুযোগ আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি নবম ধাপের ইউপি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ শুরু দিনাজপুরের হাবিপ্রবির চার হলের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ বিসিআইসি ৬২ জনকে নিয়োগ দেবে শিহাবের মৃত্যু: সৃষ্টি স্কুলের ৯ শিক্ষক আটক বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ‘ইন্ট্রোডাকশন টু এসডিজিজ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত ইয়েস বাংলাদেশের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা এনসিটিএফ’র আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম একাডেমিক কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত

গবেষণার পুরো টাকা খরচ করতে পারেনি ঢাবি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২০
  • 4 Time View
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাজব ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গতবছরের (২০১৯-২০ অর্থবছর) বাজেটে গবেষণাখাতে মোট বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা৷ কিন্তু সংশোধিত বাজেটে গবেষণাখাতে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা৷ অর্থাৎ, গবেষণা-বরাদ্দের পুরো টাকা ব্যয় করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়৷

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় বসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের মুলতবি হওয়া বার্ষিক অধিবেশন৷ এই অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ অর্থ বছরের মূল বাজেট এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করা হবে৷ অধিবেশনটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুত করা গত অর্থ বছরের সংশোধিত ও আগামী বছরের মূল বাজেটের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণা-বরাদ্দের এই চিত্র পাওয়া গেছে৷

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট আগামী অর্থবছরের জন্য ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে৷ আজকের সিনেট অধিবেশনে তা চূড়ান্ত হবে৷ এই বাজেট বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ৭৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা অনুদান দেবে আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি, ভর্তি ফরম বিক্রি, বেতন-ভাতা থেকে কর্তন, সম্পত্তিসহ নিজস্ব খাতগুলো থেকে ৭১ কোটি টাকা আয় হবে। এই দুই খাত থেকে ৮১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা আয় হলেও বাজেটে ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘাটতি থাকবে৷

গবেষণায় বরাদ্দ এবারও কমছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা৷ সেখানে গবেষণায় মোট বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা ছিল বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ৷ এর আগের অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল বাজেটের ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ৷ অর্থাৎ, সর্বশেষ দুই অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ ক্রমাগত কমেছে৷

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে গবেষণাখাতে মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০ কোটি ৯১ লাখ টাকা৷ শতাংশের হিসাবে এই বরাদ্দ মোট বাজেটের ৪.৭ ভাগ৷ এর মধ্যে কয়েকটি অনুষদের গবেষণার সরঞ্জাম কেনা এবং কয়েকটি অনুষদ-বিভাগের ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি কেনা ও ল্যাব স্থাপনে ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে৷ এ ছাড়া গবেষণা মঞ্জুরী হিসেবে রয়েছে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ কোটি টাকা৷

 অন্য খাতগুলোতে বরাদ্দ ও বাজেট-ঘাটতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা বাজেটে শিক্ষকদের বেতন খাতে ১৩৮ কোটি ৫০ লাখ (বাজেটের ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ) ব্যয় ধরা হয়েছে৷ এ ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় হবে যথাক্রমে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ (বাজেটের ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ) ও ৬৫ কোটি টাকা (বাজেটের ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ)৷ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভাতা বাবদ সহায়তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় হবে ২১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা (বাজেটের ২৪ দশমিক ৮১ শতাংশ)৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অর্থবছরের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রতিবছরই বাজেটে ঘাটতি থাকছে৷ সর্বশেষ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি দেখানো হয়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ আর নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতি ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ৷

এ ছাড়া শিক্ষকদের বিভিন্ন গবেষণা-প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক প্রকাশনা জার্নালে প্রকাশ করতে সহায়তা ও শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে-বিদেশে শিক্ষা-বিনিময় করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে দুটি নতুন খাত সৃষ্টি করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে৷ এর মধ্যে প্রথমটির জন্য সংশোধিত বাজেটে ২০ লাখ ও আগামী প্রস্তাবিত বাজেটে ১ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয়টির জন্য সংশোধিত বাজেটে ৫০ লাখ ও আগামী অর্থবছরের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে৷

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে গত মার্চ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো কার্যত বন্ধ থাকায় যথার্থভাবে আর্থিক তথ্যাদি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন৷ বাজেটের মুখবন্ধে তিনি বলেছেন, আর্থিক বিধি-বিধান মেনে নির্ভুল বাজেট তৈরির সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে৷ কোথাও কোনো বরাদ্দের সমন্বয় করা প্রয়োজন হলে বা কোনো তথ্যের পরিবর্তন প্রয়োজন হলে ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সমন্বয় ও সংযোজন করা হবে৷

“সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে শিক্ষা ও গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে, বললেন কোষাধ্যক্ষ”

অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকারের যথার্থ দৃষ্টিভঙ্গি না থাকা এবং কখনো কখনো বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দায়িত্বশীল প্রশাসকদের আর্থিক বিধিবিধান পালন না করার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন৷

আজকের সিনেট অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত করা বাজেটের মুখবন্ধে নিজের ‘৮ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা’ থেকে এই মন্তব্য করেন সম্প্রতি মেয়াদ শেষ হওয়া কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল উদ্দীন৷ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মানের ‘ব্যাপক ধসের’ বিষয়টি উল্লেখ করে মো. কামাল উদ্দীন বলেন, সরকারসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা বাস্তবতা মেনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দুর্যোগ অনিবার্য।- সূত্র: প্রথম আলো

মুখবন্ধে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়া অনলাইন ক্লাসের জন্য নিজের একটি প্রস্তাবও দিয়েছেন বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ৷ তিনি বলেছেন, অনলাইন ক্লাস করার উপযোগী স্মার্টফোন কেনার জন্য যদি ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়, তাবলে ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা পঞ্চম বা তার ওপরের গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, তাঁদের মূল বেতন এক বছরের জন্য ৩ বা ৫ শতাংশ কমিয়ে দিলে প্রায় ১০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ১০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া সম্ভব৷ বাকি ২০ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিল থেকে দেওয়া যেতে পারে। অথবা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের কাছে ৫০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের আবেদন করা যেতে পারে৷

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin