December 9, 2022, 11:41 pm

চ্যাম্পিয়ানের পুরস্কার ছুয়ে, চুক্তির টাকায় তৃপ্তি মেটেনা সোনিয়ার

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, মার্চ ২০, ২০২১
  • 143 Time View

১১ বছরের সোনিয়া খাতুন। ঘোড়দৌড়ে বেশ সুনাম সোনিয়ার। রয়েছে প্রথমস্থান অধিকারের একাধিক খবর। কিন্তু খেলার মতো নিজের ঘোড়া নেই, তাই চ্যাম্পিয়ন হয়েও জোটেনা পুরস্কার। ফলে চুক্তির টাকায় সন্তষ্ট থাকতে হয় সোনিয়াকে।
জানা গেছে- ঘোড়দৌড়ের খুদে এই খেলোয়াড়ের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের হোগলা-নেজুবাজার গ্রামে। বাবা মতিউর রহমান দিনমুজুর। পরিবারে দ্বিতীয় মেয়ে সোনিয়া। সোনিয়া বেগমনগর মহিলা মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

সম্প্রতি সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় খেলা দেখিয়েছে অল্প বয়সে কিশোরী সোনিয়া। তার এমন সাফল্যে মুগ্ধ পরিবারসহ এলাকাবাসী। প্রায় প্রতিটি ঘোড়দৌড়ে অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন হয় সোনিয়া। তবে বরাবরের মতোই চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার অন্যের হাতে তুলে দিতে হয়। এসময় অবস্থায় দিনশেষে মলিন মুখে চুক্তির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় সোনিয়াকে। সোনিয়ার ঘোড়দৌড় রাজশাহী কিংবা চাঁপাইয়ের সীমানা পেরিয়ে সিলেট, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইলেও পৌঁছে গেছে।

সর্বশেষ গত শনিবার (১৩ মার্চ) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের শাইলঘাটে ১০০ প্রতিযোগীকে হারিয়ে প্রথমস্থান অর্জন করে সোনিয়া। পরে টাঙ্গাইলের সখিপুর গ্রামের আবুল হাশেমের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সোনিয়া। এতে চ্যাম্পিয়ান হয়ে প্রথম পুরস্কার পান মোটরসাইকেল। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী মোটরসাইকেলটি বরাবরের মতোই জোটেনি তার কপালে। সে চুক্তির ৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরে।

এনিয়ে কষ্ট আর চাঁপা ক্ষোভ সোনিয়া ও তার পরিবারের। তাদের দাবি যদি তাদের একটি ঘোড়া থাকতো। তাহলে হয়তো চ্যাম্পিয়ানের পুরস্কারটা নিজের ঘরেই আসতো।

সোনিয়ার বাবা মতিউর রহমান বলেন, এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ করে একটি ছোট ঘোড়া কিনে ছিলাম। তার পর থেকেই সোনিয়া ঘোড়দৌর শিখতে থাকে। এর ৭ দিনের মাথায় শিবগঞ্জ উপজেলা স্টেডিয়ামে একটি প্রতিযোগিতায় ডাক আসে। তখন মানুষের একটি ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় প্রথমস্থান অর্জন করে সোনিয়া।

তিনি আরও বলেন, এর পরে জেলার দরগাডাঙ্গা, বিসমি, পোলাডাঙ্গা, ঘুঘুডিমা ছাড়াও রাজশহী, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, সিলেট, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বড় বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ফলাফলও হয়েছে একই রকম। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি খেলায় সোনিয়া অংশ নিয়েছে।

অবিশ্বাস্য সাফল্যের অধিকারী সোনিয়া বলেন, খেলতে খেলতে শিখেছি। এখন ভালো খেলি, তাই সবাই ডাকে। আমার ছোট্ট একটি ঘোড়া আছে, কিন্তু এটা নিয়ে খেলতে পারি না। তাই পুরস্কারও পায় না। আমরা গরিব, একটাই ঘর। এই ঘরেই পাঁচ বোন আর মা-বাবা বাস করি। কীভাবে বড় ঘোড়া কিনব?

সোনিয়ার প্রতিবেশী আব্দুর রহমান, মুসলেমা খাতুন, মোশাররফ হোসেন বলেন, সোনিয়া আমাদের জেলার গর্ব। সারাদেশে তার সুনাম হচ্ছে। খুব কম বয়সে এতো নামডাক সচরাচর কেউ পায় না। সোনিয়া ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান তারা। শনিবার সোনার দেশ পত্রিকায় করা স্মৃতি আক্তারের সংবাদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin