July 5, 2022, 9:41 pm
শিরোনাম :
প্রাণ, মিনিস্টার ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে চাকরির সুযোগ আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি নবম ধাপের ইউপি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ শুরু দিনাজপুরের হাবিপ্রবির চার হলের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ বিসিআইসি ৬২ জনকে নিয়োগ দেবে শিহাবের মৃত্যু: সৃষ্টি স্কুলের ৯ শিক্ষক আটক বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ‘ইন্ট্রোডাকশন টু এসডিজিজ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত ইয়েস বাংলাদেশের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা এনসিটিএফ’র আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম একাডেমিক কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০
  • 5 Time View

শিক্ষাজব ডেস্ক:

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের নয় বছরের শিশু নুসরাত জাহান বুধবার রাতে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে অভিযোগে হত্যা মামলা হয়েছে। সে দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সেই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশুটির বাবা মো. সুমন মিয়া বাদী হয়ে রাতেই আগৈলঝাড়া থানায় মামলাটি করেন।

মেয়েটির বাবা সুমন মিয়ার অভিযোগ, করোনাকালে স্কুল বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমিতে পাঠদান চলছিল। সেখানে সাময়িক পরীক্ষাও নেওয়া হয়। ওই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় মেয়েকে শিক্ষক বকাবকি করেন এবং বেত দিয়ে পেটান। অভিমানে তাঁর মেয়ে নুসরাত বুধবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

স্যারেরা কী করল? আমার মা বেঁচে থাকলে কাজ করে খেত। কিন্তু আমার বুকের ধন বুকে থাকত। নিষ্ঠুর শিক্ষক আমার মাকে মেরে ফেলল। আমি এর বিচার চাই।

নুসরাতের মা তানিয়া আক্তার গ্রামবাসী, শিক্ষক, অভিভাবক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারি নির্দেশে দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। দুই সপ্তাহ আগে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্কুলটি খুলে। সেখানে পাঠদান শুরু হয়। গত সপ্তাহে সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়।

খাজুরিয়া গ্রামের কয়েকজন অভিভাবকের ভাষ্য, করোনার কারণে প্রায় ৬ মাস বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এ সময়ে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে ভালো করে পড়াশোনা করতে পারেনি। ফলে অনেকেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদের শিক্ষকেরা গালাগাল ও মারধর করেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবককে জানিয়েছে।

নুসরাতের মা তানিয়া আক্তার (৩০) কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘স্যারেরা কী করল? আমার মা বেঁচে থাকলে কাজ করে খেত। কিন্তু আমার বুকের ধন বুকে থাকত। নিষ্ঠুর শিক্ষক আমার মাকে মেরে ফেলল। আমি এর বিচার চাই।’

সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘মারধর নয়, ফেল করায় মৃদু শাসন করা হয়েছে। নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নয়ন তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। তারপরও কেন মারধর করা হলো, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে স্কুল খোলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে পুরোপুরি ক্লাস শুরু করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চর্চা ধরে রাখতে স্বল্প পরিসরে পাঠদান করা হচ্ছিল।’

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীর বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে পাঠিয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র:দৈনিক শিক্ষা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin