বেতনহীন আজিজুল হক কলেজের ২০০ কর্মচারী

  • 442
    Shares

বেতনহীন হয়ে পড়েছে  আজিজুল কলেজের ২০০ কর্মচারী । করোনাকালে শিক্ষার্থী ভর্তি, সেশন ফি এবং ফরম পূরণ বন্ধ থাকায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে মাস্টাররোলে (হাজিরাভিত্তিক) নিয়োজিত ২০০ কর্মচারী তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।

গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের ৬০ শতাংশ বেতন দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি বছরের মে থেকে বেতন আরও ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ায় স্বল্প আয়ের ওই কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বগুড়া আজিজুল হক কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি পাস কোর্স, ২৩টি বিভাগে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্সে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর বাইরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত জাতীয় দক্ষতামান কোর্সও চালু আছে। তবে এর বিপরীতে রাজস্ব খাতে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন কর্মচারী রয়েছেন। যা দিয়ে কলেজের দৈনন্দিন কাজ এবং নৈশকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই বিভিন্ন সময় মাস্টাররোলে ২০০ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মাসিক বেতন পাঁচ হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে। বেতনের পাশাপাশি তাদের মূল বেতনের সমপরিমাণ ধর্মীয় উৎসব ভাতাও দেওয়া হয়।

কলেজ প্রশাসন সূত্রগুলো জানায়, মাস্টাররোলে কর্মচারীদের জন্য সরকারি বরাদ্দ নেই। সে কারণে তাদের বেতন-ভাতা নির্বাহের জন্য শিক্ষার্থী ও বেসরকারি কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের নামে ৪০০ করে টাকা উত্তোলন করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি পাস কোর্স, অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির সময় সেশন ফির সঙ্গে এবং বিভিন্ন পরীক্ষার আগে ফরম পূরণের সময় ওই টাকা আদায় করা হয়। কর্মকর্তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর ওই তহবিলে প্রায় ৮০ লাখ টাকা জমা হয়। প্রতি মাসে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। তবে ২০২০ সালের মার্চে করোনা সংক্রমণের কারণে কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে কেবল উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তবে অনার্স ও মাস্টার্সে ভর্তি এবং ফরম পূরণ বন্ধই থাকে। ফলে বেসরকারি কর্মচারী কল্যাণ তহবিলে অর্থের জোগানও সীমিত হয়ে পড়ে। এভাবে তহবিলের অর্থ ফুরিয়ে আসার কারণে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়। চলতি বছর অনার্স ও মাস্টার্সের ফরম পূরণ শুরু হলে ফের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত শতভাগ বেতন পরিশোধ করা হয়। তবে মে মাস থেকে আবার বেতন ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এতে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অফিস সহকারী হাসান উদ্দিন মোহাম্মদ আরিফ বলেন, করোনার আগে বেতন পেতাম সাত হাজার ৬৫০ টাকা। এখন পাচ্ছি তার অর্ধেক। এ অবস্থায় সন্তানদের স্কুলের সেশন ফির টাকা ঋণ করে পরিশোধ করতে হয়েছে। কলেজের ইলেক্ট্রশিয়ান আজহারুল ইসলাম বলেন, যে বেতন দেওয়া হয় তা দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ১০টি দিনও চলে না। আবার সেই বেতনেরও অর্ধেক দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে আমাদের খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শাহাজাহান আলী বলেন, করোনাকালে ছাত্র ভর্তি এবং ফরম পূরণ বন্ধ থাকায় কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের অর্থ আদায়ও বন্ধ হয়ে যায়। সে কারণে তাদের বেতন প্রদানে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিপুলসংখ্যক কর্মচারীর বেতন-ভাতার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

সূত্র : সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *