July 5, 2022, 7:01 am
শিরোনাম :
প্রাণ, মিনিস্টার ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে চাকরির সুযোগ আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি নবম ধাপের ইউপি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ শুরু দিনাজপুরের হাবিপ্রবির চার হলের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ বিসিআইসি ৬২ জনকে নিয়োগ দেবে শিহাবের মৃত্যু: সৃষ্টি স্কুলের ৯ শিক্ষক আটক বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ‘ইন্ট্রোডাকশন টু এসডিজিজ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত ইয়েস বাংলাদেশের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা এনসিটিএফ’র আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম একাডেমিক কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত

ভার্চুয়াল শিক্ষায় টেকসই রূপান্তর

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, জুন ২৭, ২০২০
  • 4 Time View

শিক্ষাজব ডেস্ক:

প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম

অধুনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুকলেই একটা পরিবর্তন চোখে পড়ছে। সীমিত আকারে অফিস, ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হওয়ায় মিটিং করা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কনফারেন্স চালানো, অনলাইন পাঠদানের জন্য ক্লাস নেয়ার সরগরম অবস্থা লক্ষ করা যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটা একটা বিরাট আধুনিক পরিবর্তন। করোনার প্রাদুর্ভাবের পূর্বেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ছোঁয়ায় এই ধরনের পরিবর্তনের হাতছানি নিয়ে অনেক ভাবনার উদ্রেক আমরা দেখতে পেয়েছি। মনে হচ্ছে, করোনার আক্রমণ এই পরিবর্তনে একধাপ গতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

অনেকে ভেবেছেন, এই তো ক’দিন। করোনা গেলেই ক্লাসে ফিরব, তাই আপাত মন্দের ভালো শিক্ষার্থীদের ঘরবন্দি রেখে একটু ব্যতিব্যস্ত রাখার জন্য অনলাইনে সাময়িক পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হোক। সেই হিসাবে অনেক প্রতিষ্ঠান সেটা চালু করে দিয়েছিল। কিছুদিন পর গবেষণায় দেখা গেল- নানা কারণে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী সেটার নাগাল পায়নি, ফলে তারা সুফলও পায়নি।

এদিকে এখন বলা হচ্ছে- করোনা এখনই বিদায় নেবে না। আগামী দু-এক বছরে চলে যাবে কি না সন্দেহ। তাই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি থাকতে হবে। জুন ২৬ তারিখে এক সেমিনারে বলা হয়েছে- আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণের পিক সময় এখনও আসেনি। জুলাই মাসে সেটা হতে পারে। সংক্রমণের উচ্চগতি ও মৃত্যুহার দেখে এখন তাই মনে হচ্ছে।

তাই করোনা যাক বা থাকুক, শিক্ষায় ভার্চুয়াল রূপান্তরকে স্থায়ীভাবে সাজিয়ে আধুনিক শিক্ষাকাঠামো নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যাবার পরিকল্পনা করতে হবে। সেটার প্রস্তুতির সময় এখনই। সরকারিভাবে শিক্ষার রূপকল্প ২০৪১ পরিকল্পনার সাথে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় যদি একটি শক্ত অবকাঠামো দাঁড় করানো যায় তাহলে সেটা শিক্ষার আধুনিকায়নকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষাব্যয়ের অনেকটা সংকোচন হবে এবং অপচয় রোধ হবে। তাই এটাকে সাময়িক দায়সারা গোছের কাজ না ভেবে শুরুতেই একটি মজবুত কাঠামো তৈরির চিন্তা নিয়ে কাজ শুরু করা ভালো।

এ জন্য যেসব কাজে হাত দিতে হবে সেগুলো বিভিন্ন মাঠ গবেষণায় প্রায় অনেকটাই বের হয়ে এসেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত মাঠ গবেষণা ফলাফলে জানা গেছে- অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পাঠদানের অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য একসঙ্গে অ্যাকসেস দেয়ার মতো নিজেদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেই। অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থীর আর্থিক সচ্ছলতা নেই। অনেকেই গ্রামে-গঞ্জে বাস করায় নেট অ্যাকসেস নেই এবং যাদের রয়েছে, তাদেরগুলো ধীরগতি সম্পন্ন।

শহরাঞ্চলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পেলেও তারাও ততটা তৎপর বা মনোযোগী নয়। সব মিলিয়ে শতকরা ৩০-৫০ ভাগ অনলাইন ক্লাশে অনুপুস্থিত থাকে। অনেক ছেলেমেয়ে অনলাইনে বিনোদন করতে ভালোবাসে। কিন্তু অনলাইন পড়াশোনা ও পরীক্ষা দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়। অনেকে অনলাইন ক্লাসে বসে শিক্ষকের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে কিন্তু কানের হেডফোনে গান শোনে। পরে বন্ধুর কাছে রেকর্ড করা ক্লাস লেকচার পেতে ধর্ণা দেয়।

তবুও সকল সমস্যা মিটিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পাঠদানের অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য একটি কমন প্লাটফর্মের কথা শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেছেন। এই প্লাটফর্ম তৈরির কাজটা কীভাবে হবে এবং কতদিনের মধ্যে সেটা বাস্তবায়ন করা যাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরেকটি বিষয় কেউ ভাবেননি। সেটা হলো- এ পর্যন্ত নেটে যে তৎপরতা দেখা গেছে সেগুলো অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নবীন শিক্ষকদের প্রচেষ্টা। নবীন শিক্ষকরা ভার্চুয়াল ক্লাসে বেশি অংশগ্রহণ করছেন। প্রবীণ বা বয়স্ক শিক্ষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে। তত্ত্বীয় ও মানবিক ধারার বিষয়গুলোতে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ এগুলো পছন্দ করেন না। কেউ আবার ঘোর সমালোচনা করেন পাওয়ার পয়েন্টে স্লাইড ব্যবহার করে ক্লাস নেয়ার।

ক্লাসে গিয়ে সিলেবাস ও টপিকবহির্ভূত আলোচনা করে সময় কাটানো শিক্ষক এখনও অনেক আছেন। অনলাইনের ক্লাস কেউ রেকর্ড করতে পারে এই সংকোচে তারা এই আধুনিক ব্যবস্থায় মোটেও সায় দেন না বরং অনেকে এর সমালোচনা করেন। যদিও কোনো গবেষণায় এই ধরনের সমস্যা তুলে ধরা হয়নি তথাপি এটার ওপরও খানিকটা গুরুত্ব দেবার সময় এসেছে। কারণ অনেকে গবেষণা নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান ও অনলাইন লাইব্রেরির কাছে ঘেঁষেন না। কম্পিউটােের টাইপ করতেও জানেন না। ই-কন্টেন্ট তৈরি করতে জানেন না। এ ব্যাপারে তাদের নিজেদের মাইন্ড সেট করাটাও বেশ দুরূহ ব্যাপার।

এখন আসি সমস্যাগুলো উতরে অনলাইন শিক্ষায় আমাদের কীভাবে সফলকাম হতে হবে সে বিষয়ে। গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য সরঞ্জাম ধার দেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার লাইব্রেরিতে যেভাবে বই ধার দেয়া হয় সেভাবে নোটবুক, নেটবুক, ল্যাপটপ, পামটপ, স্মার্টফোন, রাউটার, হেডফোন ইত্যাদি কার্ডের মাধ্যমে ধার দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটা বাবা-মা ও অভিভাবকদের আয়ের সার্টিফিকেট দেখে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেবার আশু জরুরি ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলো কেনার জন্য বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ দিতে হবে। অথবা কেন্দ্রীয়ভাবে ভালো ব্রান্ডের মেশিনপত্র কিনে দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্র্যাকটিক্যাল রিসার্চ ও ফিল্ডওয়ার্কের জন্য বিকল্প ভাবনায় গ্রেডিং প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ওপেন বুক সিস্টেমে দীর্ঘ সময়ব্যাপী অনলাইনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে যেটা পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত রয়েছে। আমাদের দেশে সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতেও অনেক কোর্সের ওপর ওপেন বুক পরীক্ষা নেয় হয়। বিশেষ করে আইন ও জটিল তত্ত্বীয় বিষয়গুলোর জন্য।

অনেক জায়গায় উপস্থিতি, অ্যাসাইনমেন্ট ও ক্লাস রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে গ্রেডিং দেয়ার পদ্ধতি বেশ প্রচলিত। এছাড়া পৃথিবীর অনেক দেশে শুধু লেকচার শুনলে বা অংশগ্রহণ করলেই কোর্স সমাপনীর পরিবর্তে শুধু অংশগ্রহণের সনদ দেয়া হয়ে থাকে। সেখানে ক্লাসের মধ্যেই প্রশ্নত্তোর পর্ব থাকে এবং টকশোর মতো কোনো বিষয়কে ব্যাখ্যা করার জন্য সুযোগ দেয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও উৎসাহ জানা যায়। আমাদের দেশেও সেটার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে পরীক্ষাভীতি ও নকল প্রবণতা কমে আসবে। অর্থাৎ কোর্সের ওপর কোনো শিক্ষার্থীর মনোযোগ বা মাইন্ড সেট কতটুকু তা পর্যবেক্ষণ করেই একজন শিক্ষক সেই কোর্সের গ্রেডিং সনদ দেয়ার সুপারিশ করবেন। এতে শিক্ষার্থীর মনোযোগ বাড়বে ও ফাঁকিবাজি করার প্রবণতা কমে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি মূখ্য হয়ে দাঁড়াবে।

এই মুহূর্তে ইন্টারনেট সহজলভ্য করা, ফ্রি মেগাবাইট প্রদান করার জন্য ফোন কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া দরকার। শিক্ষকগণ অনলাইনে ক্লাস নেয়ার পর তাদের ক্লাসের সফট কপিগুলো ই-মেইল, ড্রপবক্স, আইক্লাউড, ইত্যাদিতে সংরক্ষণ করে সেগুলোর ওপর আইডি নম্বর দিয়ে ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীর জন্য ওপেন অ্যাকসেস দিলে যারা কোনো কারণে বুঝতে পারেনি বা ক্লাস মিস করেছে তারা পরে সেগুলো নিজেরাই খুঁজে নিতে পারবে।

করোনার এই কঠিন সময় দীর্ঘ হলে হেলায় কালাতিপাত করা চলবে না। এ সময়ে যেভাবেই হোক আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জীবনের প্রতি যত্ন নিয়ে পড়ায় অবিচল থাকতে হলে অনলাইন শিক্ষাকে একটি টেকসই অবকাঠামোয় রূপ দেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।

লেখক : প্রফেসর, সমাজকর্ম বিভাগ এবং ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্র: জাগো নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin