মহামারিতেও সেশনজটমুক্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

  • 2
    Shares

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার শেষ করেছে রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি ছাড় ও অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান জাহিদ বলেন, ‘করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় টানা বন্ধে আমাদের সংকটে পড়তে হয়নি। কারণ করোনা শুরুর পর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে অনলাইনে ভালওভাবে ক্লাসই করতে পারছে না, সেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী সফলভাবে শেষ করেছে পুরো সেমিস্টার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর ২০ শতাংশ পর্যন্ত সেমিস্টার ফি মওকুফ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিবারকেও দেয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তা, মা-বাবা-হারানো শিক্ষার্থীরা পেয়েছেন বিশেষ বৃত্তি।’ তাই এই মহামারিতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো তারা উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন।  কেবল জাহিদ নন, তার মতো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরসহ বিভিন্ন লেভেলের ২২ হাজারেও বেশি শিক্ষার্থী করোনার মধ্যেই জিডিটাল প্লাটফর্মে নির্বিঘ্নে তাদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা সর্বোচ্চ সংখ্যাক শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান এখন নর্থ সাউথ। অনলাইনে শিক্ষাদানের হালচাল নিয়ে নর্থ সাউথের এমন সাফল্যের কথাই জানা গেছে। বলা হচ্ছে, নর্থ সাউথের সফল কার্যক্রম অন্য অনেকের জন্যও হতে পরে অনুকরণীয়। পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত আছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সফলতার সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে তিন হাজারেরও বেশি অনলাইন ক্লাস নিয়েছি, উপস্থিতি ৯৩ শতাংশের মতো। যা স্বাভাবিক সময় এর থেকেও বেশি। আমাদের একটা ক্লাসও মিস হয়নি। আমাদের কমিটমেন্ট আছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোটিভিটেড ছিল বলেই আমরা সফল হয়েছি। তিনি বলেন, আসলে শতভাগ সফলভাবে অনলাইনে শিক্ষাদান একটু কঠিন, তবে সত্যিকারে উদ্যোগী হলে কাজটি যে অসম্ভব নয় মোটেও তাই প্রমাণ করল আমাদের প্রতিষ্ঠান।’ অনলাইনে কম বেশি ক্লাস নিশ্চিত করেছে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসহ অন্যান্য কার্যক্রম কীভাবে সম্পন্ন করলেন? এক্ষেত্রে নর্থ সাউথের অবস্থান দেশের মধ্যে আসলে কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবেও নর্থ সাউথকে এক নম্বরেই রাখলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। তিনি সেখানকার ইংরেজি বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিয়ে থাকেন। তার মতে, দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মধ্যে করোনাকালে সবচেয়ে সফল নর্থ সাউথ। বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনেকেই সফল হতে পারছে না নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে। করোনায় দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় যে স্থবিরতা তার ছোয়া কিন্তু লাগেনি নর্থ সাউথে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১২ মাসে তিন সেমিস্টারে সব শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে ফি মওকুফ করা হয়েছে। স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটি ফি শতভাগ মওকুফ করা হয়েছে। মোট মওকুফের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ। মেধাবী ও অভাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসাবে ১৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী তাদের বাবা-মা হারিয়েছে তাদের জন্যও বিশেষ বৃত্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *