July 6, 2022, 6:47 am
শিরোনাম :
প্রাণ, মিনিস্টার ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে চাকরির সুযোগ আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি নবম ধাপের ইউপি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ শুরু দিনাজপুরের হাবিপ্রবির চার হলের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ বিসিআইসি ৬২ জনকে নিয়োগ দেবে শিহাবের মৃত্যু: সৃষ্টি স্কুলের ৯ শিক্ষক আটক বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ‘ইন্ট্রোডাকশন টু এসডিজিজ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত ইয়েস বাংলাদেশের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা এনসিটিএফ’র আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম একাডেমিক কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত

যে পদ্ধতিতে অনলাইনে পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ডাটা খরচ দেবে সরকার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২০
  • 7 Time View

শিক্ষাজব ডেস্ক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়টায় শিক্ষার্থীরা যাতে ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারে সেজন্য তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারে যে খরচ হবে- তা সরকারই দিয়ে দেবে, জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেছেন, “অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান পৌঁছে দিতে শিক্ষার্থীর যে ‘ডাটা কস্ট’ – সেটা আমরা্ সাবসিডাইজ করার কথা ভাবছি।”

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার দশদিনের মাথায় মার্চের মাঝামাঝি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলের বন্ধ কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। সেই থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা যাতে ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারে সেজন্য সরকারিভাবে অনলাইনে শিক্ষার খরচ পরিশোধ করা, শ্রেণিকক্ষে কয়েক ভাগে শিক্ষার্থীদের পাঠদান – এরকম নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

যেসব পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, “শিক্ষার্থীর যে ডাটা কস্ট সেটা সাবসিডাইজ করার জন্য যেমন ধরুন আমরা একটা সরকারি ওয়েবসাইট করলাম। সেখানে ক্লাসের পড়া রেকর্ডেড থাকবে। যার কাছে একটা স্মার্ট ডিভাইস থাকবে সে তার সময়মতো ক্লাস করে নিতে পারবে।”

“মোবাইল কোম্পানিগুলো আমাদের বলবে এই সাইটের জন্য কত টাকা ডাটা কস্ট এসেছে। সেটা সরকার পরিশোধ করে দেবে।”

তিনি বলছেন, স্কুল পর্যায়ে সব শিক্ষার্থীকে একসাথে ক্লাস না করিয়ে কয়েক ভাগে ভাগ করে ক্লাস নেয়া সেরকম পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

“এটা হতে পারে এক সপ্তাহে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্লাস করবে। পরের সপ্তাহে অন্যরা।”

তবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে যে কার্যক্রমই নেয়া হবে তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ীই হবে, বলছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।

স্কুল খোলার পর যেভাবে এগোতে চান একজন শিক্ষক

বাংলাদেশে শহরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে পাঠদান চলছে। টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও সরকারের তরফ থেকে পাঠদানের চেষ্টা রয়েছে।

তবে দেশে সরকারি হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের সবার পরিবার স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য রাখে না।

বিশেষ করে মহামারির কারণে যেভাবে মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে বা কমে গেছে তাতে অনেকের ক্রয়ক্ষমতাও কমে গেছে।

অন্যদিকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে বহু পরিবারে টেলিভিশন পর্যন্ত নেই, – বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

কথা হচ্ছিল এরকমই একটি এলাকা কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক এশতেয়ারা রুমার সাথে।

তিনি বলছেন, স্কুল খোলার পরপর তাদের হাতে একটি শ্রেণিতে যত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে তার সবকিছু পড়িয়ে শেষ করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলছেন, “শুরুতে প্রতিটা ক্লাসে কিছু বেসিক জিনিস থাকে যেমন প্রথম শ্রেণিতে বর্ণ শেখা ও লিখতে পারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে শব্দ শেখা, যুক্তবর্ণ ও বাক্য গঠন, তৃতীয় শ্রেণিতে শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে রিডিং পড়তে পারবে। যে শ্রেণিতে যে বেসিক বিষয়, সেগুলোর উপরেই স্কুল খোলার পর আমি জোর দেবো।”

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনি্ও গুতেরেস আজ বলেছেন করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে যেভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে তা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম।

শিক্ষায় এখন যে সংকট চলছে তা যাতে বিপর্যয়ে রূপ না নেয় সে ব্যাপারে আজ বিশ্বের সকল সরকারকে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, শিক্ষায় গত কয়েক দশকে যে অগ্রগতি হয়েছে তা মুছে যাচ্ছে এই কয়েক মাসেই।

শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ বিশ্বব্যাপী ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করছিলেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ গণসাক্ষরতা অভিযানের রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি বলছিলেন, “সরকারের সদিচ্ছার একটা বহিঃপ্রকাশ আমরা আশা করেছিলাম বাজেটে। সেটি কিন্তু হয়নি। উল্টো বরং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম এটি প্রত্যাহার করা হবে কিন্তু তা করা হয়নি।”

“সরকার ডাটা চার্জ দিয়ে দেবে সেটা খুবই ভালো কথা, কিন্তু যে খরচ বেড়েছে সেটা প্রত্যাহার প্রয়োজন।”

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে দেশে ৯৬ শতাংশ পরিবারে মোবাইল ফোন রয়েছে যার বড় অংশই ফিচার ফোন। যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার সম্ভব এবং তাতে রেডিও রয়েছে।

সেগুলোর দাম কমানো অথবা সরকারিভাবে বিলি করার কথা বলছেন রাশেদা কে চৌধুরী যাতে করে সেখানে সরকারিভাবে বার্তা পাঠিয়ে এবং রেডিওর মাধ্যমে পাঠদান সম্ভব হয়।

তিনি বলছেন, “সরকার অনেক বার্তা পাঠায় যেমন টিকা দিন, করোনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। এরকম বার্তা পাঠাতে পারে সরকার। টিভিতে যে পাঠদান হচ্ছে, রেডিওতে সেই একই জিনিস সম্প্রচার হলে এই যে এত লোকের হাতে ফিচার ফোন তারা তাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনায় সেটা কাজে লাগাতে পারবে। ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়া যাবে।”

তিনি আরও বলছেন, “শিশুরা এখন পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তাসহ নানা ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। সরকারের উচিত উপবৃত্তির তালিকাটা বাড়ানো। এক পরিবারের দুটি শিশুকে যদি উপবৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে, তাদের যদি আর একটি সন্তান তাকেও এর আওতায় আনা অতি প্রয়োজন। খেতে না পারলে লেখাপড়া হবে না।”

সূত্র: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin