রাজশাহীতে স্কুল নির্মাণ কাজে অনিয়ম : প্রধান শিক্ষক-ঠিকাদার পক্ষের হাতাহাতি

  • 45
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করছেন ঠিকাদার এমন দাবি প্রধান শিক্ষকের। তবে ঠিকাদারের দাবি প্রধান শিক্ষক চাঁদার টাকা না পেয়ে এমন অভিযোগ তুলেছেন।

এনিয়ে বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরে পুঠিয়ার দৈপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণ শ্রমিক ও অফিস সহকারীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আহত নির্মাণ শ্রমিক শামিম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর পিয়ন সালামসহ বাকিদের পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জানা গেছে- এই কাজ বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী। কাজ করছেন রাজশাহী কোর্ট এলাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আজিজুল ট্রেডার্স। তবে স্থানীয়রা বলছেন- নিম্নমানের কাজ হচ্ছে এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এনিয়ে গুরুত্ব দেন না ঠিকাদার। মেসার্স আজিজুল ট্রেডার্স স্বত্বাধীকারী নুরুল হোদা অভিযোগ করেন, চারতলা ভবনের কাজ চলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম তার নিকট চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা নেন।

এনিয়ে বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিলো। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মধ্যস্থ্যতায় পুণরায় তিনি কাজ শুরু করেন। কাজ শুরুর পরে প্রধান শিক্ষক ঠিকাদারের প্রতিনিধি সিয়ামের থেকে ১ থেকে ২ হাজার করে টাকা নিয়ে যেতেন। এনিয়ে নির্মাণ শ্রমিক শামীম প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষীপ্ত হয়ে শামীমকে হাতুরী দিয়ে মারধর করে। পরে বিদ্যালয়ে ক্লার্ক রবিউল, পিয়ন সালাম ও তার পরিবারের সিদস্যরা এসে মারপিট করেন। এসময়ে বাঁধা দিতে গেলে শ্রমিক মীর ও মুনসুরকেও হাতুরী দিয়ে মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে নেয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম জানান, ঠিকাদার অনিয়ম করে নির্মাণ কাজ করে আসছে। ঠিকাদারের লোকজন মারধর করেছেন আমার কর্মী আবদুস সালামকে। ঠিকাদারের অভিযোগ চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে ঠিকাদার এমন অভিযোগ তুলে ছিলো। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসে প্রমান করতে পারেনি ঠিকাদার। তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে সব মিথ্যা।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মো. আনাস বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে সার্বিক বিষয় জানাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ কাজের মান খারাপ। এনিয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করছিল।’

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, দুই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *