July 1, 2022, 5:41 am
শিরোনাম :
শিহাবের মৃত্যু: সৃষ্টি স্কুলের ৯ শিক্ষক আটক বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ‘ইন্ট্রোডাকশন টু এসডিজিজ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত ইয়েস বাংলাদেশের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা এনসিটিএফ’র আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম একাডেমিক কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত রাবির নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ও উপ-উপাচার্যকে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভেচ্ছা প্রদান “আত্মবিশ্বাস আসে জ্ঞান থেকে” বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ওয়েবিনারে সোলায়মান সুখন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা’র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টের স্থায়ী ক্যাম্পাস পরিদর্শন জাতীয় শোক দিবসে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের “ওয়েবিনার ও অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিত “

রাজশাহীতে ১৪ ফৌজদারি মামলার আসামি শিক্ষকতায়, ২৩ মামলায় সাত শিক্ষক

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২০
  • 5 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মসজিদ মিশন একাডেমির সাত শিক্ষকের নামে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এক শিক্ষকের বিরুদ্ধেই ১৪টি মামলা। তার পরেও শিক্ষকতায় বহাল আছেন তারা। মামলাগুলো নগরীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে। থানার কর্তারা জানায়, মামলাগুলোতে অনেকেই জামিনে রয়েছেন। আর আইনজীবীরা বলছেন, কারো বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা থাকলে তিনি শিক্ষকতা করতে পারবেন না।

তাহলে প্রশ্ন, এতেগুলো শিক্ষক ফৌজদারি মামলার আসামি হয়েও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান করাচ্ছেন কিভাবে? শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

এর আগে ১০ আগস্ট নগরীর এক রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা- মসজিদ মিশন একাডেমির শিক্ষকদের দ্বারা অর্থ আত্মসাৎ, জামাত-বিএনপির সংশ্লিষ্টতা, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, শিক্ষার্থীদের জামায়াতের বই পড়ানো ও তাদের থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

মসজিদ মিশন একাডেমির অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খান মুঠোফোনে সোনার দেশকে জানান, শিক্ষক-কর্মচারী মিলে ১১৫ জন কর্মরত আছেন। শুধু শিক্ষক রয়েছেন ৮৫ জন। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের বাইরে কে কী করে সেটা তার জানা নেই। তবে সাংসদ বাদশা সাংবাদ সম্মেলন করেছেন। পত্রিকায় পড়ে জানলাম।

জানা গেছে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর মসজিদ মিশন একাডেমিতে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোপন বৈঠক চলাকালীন শিক্ষকসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- নগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম (৫০), প্রচার সম্পাদক শাহাদাত হোসেন (৪৫), বোয়ালিয়া থানার আমির আমিনুল ইসলাম (৬০), রাজপাড়া থানার নায়েবে আমির কামরুজ্জামান (৪৫), রাজপাড়া থানার সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন (৪১), নগরের সুরা সদস্য সিরাজুল ইসলাম (৪৮), নগরের শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি আ. সামাদ (৫০), নগরের সদস্য মাহফুজুল্লাহ জহির (৪৭), সদস্য আরিফিন মৃধা (৩১) ও সদস্য তহিদুল ইসলাম (৪৫)। তাদের বিরুদ্ধে একের অধিক মামলা রয়েছে।

নগরীর কয়েকটি থানা সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানা শিবিরের সাবেক সভাপতি। তিনি এখন বোয়ালিয়া থানা জামাতে ইসলামীর আমির। তার বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বারগুলো ৪৭/১২৯৩- ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মামলা নাম্বার ৬৫ ও ৬৬- ৩০ জানুয়ারি ২০১৭। এছাড়া কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯ -২০ নভেম্বর ২০১৯।

প্রভাষক মাইনুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন। এখন তিনি নগর জামাতের সেক্রেটারি। এছাড়া প্রভাষক মাইনুল ইসলাম নগরীর লক্ষ্মীপুরের জমজম ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও চাকরি করছেন। অনিয়ম করে দুই স্থান থেকেই বেতন নেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৪টি মামলা রয়েছে।

মাইনুলের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ১৯- ১১ মার্চ ২০১৬, মামলা নাম্বার ৩২-১৭ জানুয়ারি ২০১৭, মামলা নাম্বার ৬৫ ও ৬৬ -৩০ জানুয়ারি ২০১৭, মামলা নাম্বার ৪৭/১২৯৩- ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মামলা নাম্বার ৩৬- ৮ আগস্ট ২০১৭, কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯- ২০ নভেম্বর, বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ২৯- ২০ জানুয়ারি ২০১৫, মামলা নাম্বার ৩৭ ও ৩৮ – ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩ (একইদিনে), মামলা নাম্বার ৮২ -২৭ সেপ্টম্বর ২০১৩, মামলা নাম্বার ৭১ -২৩ সেপ্টম্বর ২০১৩, মামলা নাম্বার ২৪ -৮ সেপ্টম্বর ২০১৩ ও সেপ্টম্বর ৪৯- ২৬ জুলাই ২০১৩।

সহকারী অধ্যাপক শাহাদৎ হুসাইন নগর শিবিরের সভাপতি ছিলেন। এখন নগর জামাতের সহ-সেক্রেটারি এবং তথ্য ও প্রচার সম্পাদক ও প্রভাষক সিরাজুল ইসলাম ছিলেন বোয়ালিয়া থানা শিবিরের সভাপতি। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে চারটি করে মামলা রয়েছে।

কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯- ২০ নভেম্বর ২০১৯, বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ৬৫ ও ৬৬- ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ (একইদিন), মামলা নাম্বার ৪৭/১২৯৩- ১০ ডিসেম্বর ২০১৯।

প্রভাষক কামরুজ্জামান সোহেল ছিলেন রাজপাড়া থানা শিবিরের সভাপতি। এখন থানা জামাতের আমির। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাজপাড়া থানায় মামলা নাম্বার ৩৬/৭১২- ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ১৯ -১১ মে ২০১৬, মামলা নাম্বার ৪৭/১২৯৩ – ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মামলা নাম্বার ৬৫ ও ৬৬- ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ (একইদিন), রাজপড়া থানায় মামলা নাম্বার ৪৩/৭১২- ১২ আগস্ট ২০১৭, কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯- ২০ নভেম্বর ২০১৯।

সহকারী শিক্ষক ফরিদ উদ্দীন আক্তার ছিলেন চট্টগ্রামের শিবির নেতা। এখন তিনি রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা জামাতের আমির ও প্রভাষক তৌহিদুল ইসলাম নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামাতের সভাপতি। তাদের বিরুদ্ধে দুটি করে চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯- ২০ নভেম্বর ২০১৯, বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ৪৭/১২৯৩ – ১০ ডিসেম্বর ২০১৯।

রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি এন্তাজুল হক বাবু জানান, যে সকল অভিভাবকদের সন্তানদের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে তারা জামায়াত-বিএনপি মতদর্শী বলে আমার ধারণা। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা থাকলে সে শিক্ষকতা করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করবে। না করলে শিক্ষাবোর্ড তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন জানান, ফৌজদারি মামলা থাকলে শিক্ষকতা করতে পারবে না কেউ। তবে মসজিদ মিশন একাডেমি চলে সমাজসেবা ও ট্রাস্টির মাধ্যমে। ওই একাডেমির বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিদ্ধান্ত নেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin