July 5, 2022, 4:30 pm
শিরোনাম :
প্রাণ, মিনিস্টার ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে চাকরির সুযোগ আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি নবম ধাপের ইউপি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ শুরু দিনাজপুরের হাবিপ্রবির চার হলের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ বিসিআইসি ৬২ জনকে নিয়োগ দেবে শিহাবের মৃত্যু: সৃষ্টি স্কুলের ৯ শিক্ষক আটক বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ‘ইন্ট্রোডাকশন টু এসডিজিজ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত ইয়েস বাংলাদেশের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা এনসিটিএফ’র আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম একাডেমিক কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত

শিক্ষকের করা প্রশ্নে পরীক্ষা নিচ্ছেন মা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, জুলাই ১, ২০২০
  • 4 Time View

শিক্ষাজব ডেস্ক:

স্কুল থেকে প্রশ্ন তৈরি করে খামে ভরে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর সেই প্রশ্ন দিয়েই মায়েরা তাদের সন্তানদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।

করোনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে বাড়িতেই মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া শুরু করেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী রাধানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলীর নির্দেশনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নেয় তারা। সোমবার থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাগ্রহণ শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে প্রত্যেক শ্রেণির ছাত্রীদের এই পদ্ধতিতে মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনায় সারা দেশের মতো ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে পঞ্চগড়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম আর শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বড় ছন্দপতন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশুনায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পিছিয়ে পড়ে পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন।- খবর দৈনিক শিক্ষা

এই পরিস্থিতির মধ্যে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন তৈরি করে আলাদা আলাদা খামে ভরে বিনামূল্যে তা প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রত্যন্ত এলাকার অভিভাবকরা সেই প্রশ্ন বাক্সে তালাবদ্ধ করে রাখছেন। প্রতিদিন পরীক্ষার সময় বাক্স খুলে খাম থেকে প্রশ্ন বের করে দেন তারা। রুটিন অনুযায়ী সেই প্রশ্নে একযোগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা পরীক্ষা নেন মায়েরা। স্কুলের আদলেই পরীক্ষা নেয়া হলেও এখানে কক্ষ পরিদর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন মা। প্রশ্ন অনুযায়ী যে যার মতো উত্তর করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মায়ের হাতে খাতা তুলে দিচ্ছেন। কেউ ঘরে আবার কেউ বারান্দায় বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন। স্কেল, কলম এমনটি ঘড়িও রাখা আছে সাথে। পাশেই বসে লক্ষ্য রাখছেন মায়েরা। ছাত্রীদের প্রতিটি বাড়িই এখন হয়ে উঠেছে এক একটি পরীক্ষা কেন্দ্র। বাড়িতেই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

দশম শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা ঝিমিয়ে পড়েছিলাম। এখন স্যারেরা বাড়িতেই মডেল টেস্ট পরীক্ষা নিচ্ছেন। এতে আমাদের পিছিয়ে পড়া বিষয়গুলো নিয়মিত চর্চা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নাসিমা খাতুন নামে এক অভিভভাবক জানান, এটি অনেক ভালো উদ্যোগ। আমার মেয়ে আবারো নিয়মিত পড়ার টেবিলে বসছে। বাড়িতে পরীক্ষা নেয়ায় আলাদা একটি চাপ তৈরি হয়েছে। যেদিন পরীক্ষা সেদিন মেয়েকে আমি ১০ টার আগেই খাইয়ে দাইয়ে তৈরি করে পরীক্ষায় বসিয়ে দেই। ১০টায় খাতা ও প্রশ্ন বের করে দেই। টানা তিন ঘণ্টা আমি বসে দেখভাল করছি। আমাদের জন্যেও এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বাড়িতে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চয়ই ভালো উদ্যোগ। এছাড়া আমরা শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনলাইনভিত্তিক ক্লাস চালু করেছি। জেলার ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে ক্লাস নিচ্ছেন। শুধুমাত্র পঞ্চম, অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এই ক্লাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক এই ক্লাস কার্যক্রম স্থানীয় ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও প্রচার করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাস করতে পারছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin