December 5, 2022, 10:10 pm

সুখবর পাচ্ছেন ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, মার্চ ৫, ২০২১
  • 151 Time View

শিক্ষাজব ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে স্কুল এবং কলেজ সরকারি করা হয়েছে। কলেজ সরকারি হলেও তিন বছরে আত্তীকৃত হয়নি এসব কলেজের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। এরমধ্যে অনেকে অবসরে চলে গেছেন, দেড় হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মারা গেছেন। শিক্ষকরা কয়েক দফা আন্দোলন ও আল্টিমেটাম দিয়েও কোনো সুখবর পাননি। অবশেষে নতুন জাতীয়করণ হওয়া ৩০৩টি কলেজের জনবল আত্তীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

যে কাজ গত তিন বছরে শেষ হয়নি সেটি এখন চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে ২০টি টিম গঠন করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সব শিক্ষক-কর্মচারীদের কাগজপত্র যাচাইবাছাই করে তা চূড়ান্ত করতে হবে কমিটিকে। এরপর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

· সম্মানী বাবদ বাজেট ২৯ লাখ টাকা
· অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন
· কলেজ সরকারি হলেও আত্তীকৃত হয়নি প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন উদ্যোগে আশ্বস্ত হতে পারছেন না শিক্ষকরা। তারা বলছেন, এর আগে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কিছুই হয়নি। দৃশ্যমান কিছু না হওয়া পর্যন্ত আমরা এসব উদ্যোগে বিশ্বাসী না।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, আমি সচিব হয়ে আসার পর থেকেই এ কাজটি দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এর আগে ৫টি করে দিয়েছিলাম। করোনার কারণে গতি একটু কমে গিয়েছিল। আত্তীকৃত কাজটি আরও দ্রুত শেষ করতে ২০টি টিম করে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছি। বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সম্মানী বাবদ একটি প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি এখনও অনুমোদন হয়নি।

তিন বছরে শেষ হয়েছে ১২১টি কলেজের
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সরকারিকৃত ৩০৩টি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাগজপত্র যাচাইবাছাইয়ের জন্য পাঁচটি টিম কাজ করছিল। এই কমিটি এরইমধ্যে ১২১টি কলেজের বাছাই কার্যক্রম শেষ করেছে। এরমধ্যে একটি কলেজের ২১টি পদ সৃজনে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে পদ সৃজনের আদেশ জারি প্রক্রিয়াধীন। ৩৭টি কলেজের পদ সৃজনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পদ সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সভায় ৩৪টি কলেজের জন্য পদ সৃজনের সুপারিশ করা হয়েছে। যা সচিব কর্তৃক অনুমোদিত। ৩৪টি কলেজের কাগজপত্র সত্যায়িত/প্রতিস্বাক্ষরিত হওয়ার পর পদ সৃজনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এছাড়া পাঁচটি কলেজের কার্যবিবরণী কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। ১৬টি কলেজের কার্যবিবরণী খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৮টি কলেজের খসড়া কার্যবিবরণী প্রস্তুতের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। তবে ১৮২টি কলেজের কাগজপত্র যাচাইবাছাইয়ের কাজ শুরু হয়নি। এসব কলেজের পদ সৃজন করতে কাগজপত্র যাচাইবাছাই কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে ২০টি টিম গঠন করা হয়েছে।

২৯ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব
২০টি টিমের কাজের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী দিতে একটি বাজেট প্রস্তাব তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়ের  কলেজ শাখা-৬। প্রস্তাবিত বাজেটে ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি টিমের মাধ্যমে প্রতিটি কলেজের শিক্ষকদের সব কাগজপত্র/শিক্ষা সনদ/প্রশিক্ষণ সনদ যাচাই করতে প্রতি টিমে তিন জন কাজ করবেন। কলেজ প্রতি তিন জনের জন্য তিন হাজার টাকা সম্মানী দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৩০৩টি কলেজের জন্য এ খাতে মোট ৯ লাখ ৯ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। যাচাইবাছাই শেষে কার্যবিবরণী প্রস্তুত, নিরীক্ষা ও যাচাই চূড়ান্ত করতে একজনের জন্য কলেজ প্রতি এক হাজার করে মোট তিন লাখ তিন হাজার টাকা। শিক্ষক-কর্মচারীদের সব কাগজপত্র প্রত্যয়ন করতে কলেজপ্রতি একজনকে ৫০০ টাকা করে মোট এক লাখ সাড়ে ৫১ হাজার টাকা।

কমিটির সদস্যদের সম্মানী বাবদ কলেজ প্রতি ছয় জনকে ৫০০ টাকা হারে মোট নয় লাখ নয় হাজার টাকা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কার্যবিবরণী প্রেরণের জন্য নথি প্রস্তুত ও কার্যাদি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট শাখার দুই জন কর্মচারীকে কলেজপ্রতি ৫০০ টাকা করে মোট তিন লাখ তিন হাজার টাকা। আপ্যায়ন ও অন্যান্য খরচ বাবদ কলেজ প্রতি এক হাজার টাকা করে মোট তিন লাখ তিন হাজার টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই শেষ হওয়া কলেজের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করায় প্রশ্ন উঠেছে।

জিও জারি থেকে সুবিধা পাবেন
সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী বয়স ৫৯ বছর হওয়ায় গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩৭২ জন শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে গেছেন। প্রায় তিন বছর আগে কলেজগুলো সরকারি করা হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকৃত না করায় তারা সরকারিকরণের সুফল ছাড়াই অবসরে গেছেন। তবে তাদের বিষয়ে সরকার জিও জারির দিন থেকে সরকারি সুবিধা দেওয়ার সিদ্বান্ত নিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারিকরণে নির্বাচিত কলেজেগুলো ২০১৬ সালের ৩০ জুন নিয়োগ ও অর্থ ব্যয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে কলেজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারকে ডিড অফ গিফট দলিল করে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইবাছাই। প্রথম দফায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আটটি আঞ্চলিক পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম সরেজমিনে কলেজ পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশিতে।

এ ব্যাপারে সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি (সকশিস) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জহুরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এর আগে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিন্তু দৃশ্যমান কিছু হয়নি। তাই সব কিছুর দৃশ্যমান কিছু না হওয়া পর্যন্ত আমরা এসব উদ্যোগে বিশ্বাস করতে চাই না।- ঢাকা পোস্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 shikkhajob.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin